কুমিরের কাণ্ড
একদিন এক গ্রামের লোক বাজারে জড়ো হয়েছিল। গ্রামের এক কোণে খবর রটেছে, এক কুমির পুকুর থেকে উঠে এসে ধানক্ষেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল যে কুমিরকে ধরতে হবে।
তবে কেউই কুমিরের সামনে যেতে সাহস পাচ্ছিল না। তখন গ্রামের এক বোকাসোকা লোক, যার নাম গোপাল, এগিয়ে এলো। সে বলল, “আমি কুমির ধরতে পারব! তবে আমার শর্ত আছে। ধরার পর আমাকে একটা গোটা হাঁস দিতে হবে।”
গ্রামের লোকেরা হাসতে হাসতে রাজি হয়ে গেল। সবাই ভাবল, গোপাল তো পাগল, সে কিছুই করতে পারবে না।
গোপাল একটা লাঠি নিয়ে পুকুরের দিকে এগিয়ে গেল। পুকুরের ধারে গিয়ে সে বসে পড়ল এবং চিৎকার করে বলল,
“কুমির ভাই, কুমির ভাই! তুমি কোথায়? তোমাকে ধরতে এসেছি!”
কুমির কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে তাকাল। গোপাল এবার আরও সাহস করে চেঁচিয়ে বলল,
“তুমি আসো না, আসলে তোমার গায়ে তেল মাখিয়ে ম্যাসেজ করে দেব!”
কথাটা শুনে কুমির খুব অবাক হয়ে গেল। সে ভাবল, এমন মজার মানুষ কখনো দেখেনি। সে খেলতে মজা পাবে ভেবে ধীরে ধীরে গোপালের কাছে আসতে লাগল।
কুমির যখন একদম কাছে এল, গোপাল হঠাৎ করে লাঠি দিয়ে তার মুখে এমন বাড়ি মারল যে কুমির ভয়ে পালিয়ে গেল।
গোপাল তখন বিজয়ীর মতো ফিরে এল। সবাই তাকে নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত। কিন্তু একজন জিজ্ঞাসা করল,
“তুমি কুমির ধরলে না কেন?”
গোপাল মুচকি হেসে বলল,
“আমি কুমির ধরার শর্ত দিইনি, আমি শুধু বলেছি ধরতে আসব! আর সে শর্ত পুরো করেছি!”
সবাই হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগল। গোপালের হাঁসের আশা অবশ্য অপূর্ণই রয়ে গেল!


