মোবাইল কলরেটের ফ্লোর প্রাইস (ন্যূনতম মূ্ল্য) তুলে নেয়া এবং কলড্রপ শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিসিএ
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) গণমাধ্যম পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন দাবি জানায় সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বিএমপিসিএ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, যখন ভয়েস কলের ফ্লোর প্রাইস ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ পয়সা করা হয়েছিল তখনই আমরা এর প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু বিটিআরসি এমনকি সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমানে কোনো কোনো অপারেটর মিনিটে ২ টাকা সঙ্গে আবার ভ্যাট সার্ভিস যুক্ত করে কলরেট আদায় করছে। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে। উন্নত দেশসমূহে ভয়েস কল যেখানে ফ্রি সেখানে বাংলাদেশে ফ্লোর প্রাইস ৪৫ পয়সা এবং ২ টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে বৈষম্য তৈরি করছে।
সাশ্রয়ী কলরেট নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ফ্লোর প্রাইস অনেক গ্রাহকের কাছে ব্যয়বহুল। সে জন্য ফ্লোর প্রাইস কমিয়ে বা তুলে নিয়ে সবার জন্য সহজলভ্য কলরেট নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করতে ফ্লোর প্রাইসের সীমাও কমানো প্রয়োজন। গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করা যেতে পারে। আবার প্রতি সেকেন্ডভিত্তিক চার্জিং সিস্টেম আরও ব্যাপকভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন। এতে গ্রাহকরা তাদের ব্যবহার অনুযায়ী ন্যায্য বিল দিতে পারবেন।
কলড্রপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়ে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টে কলড্রপ বন্ধ করা, ক্ষতিপূরণ দেয়া ও নতুন করে কলরেট না বাড়ানোর জন্য আমরা রিট পিটিশন দাখিল করেছিলাম। পরে হাইকোর্ট কলড্রপের ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং কলড্রপ বন্ধ করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন। যদিও বিটিআরসির গাইডলাইন অনুযায়ী ২ শতাংশ কলড্রপ হতে পারে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিটিআরসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ ব্যাপারে নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি।
বিশেষ করে গ্রাহকের ক্ষতিপূরণ, নেটওয়ার্কের উন্নয়ন, কলড্রপের সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন, ফেয়ার বিলিং সিস্টেম, ট্যাক্স, গ্রাহকসেবার উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা এবং বিটিআরসির মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন বিএমপিসিএ সভাপতি।
Tags
News


