লেবাননের সাথে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরাইল

 


লেবাননের সাথে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল। দেশটির পার্লামেন্ট যুদ্ধবিরতি বিষয়ক চুক্তিও অনুমোদন করেছে। বুধবার (২৮ নভেম্বর) থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। ইসরাইলি টিভি নেটওয়ার্ক চ্যানেল ১২-এর বরাতে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।


গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার অজুহাতে গাজায় বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল। একই সময়ে লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গেও সংঘাত শুরু হয় তাদের।

 

প্রথমে থেকে থেকে সংঘর্ষ হলেও চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে লেবাননে বিমান হামলা জোরদার করে ইসরাইল। এরপর অক্টোবরে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী এবং হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। 


হিজবুল্লাহও পাল্টা জবাব দেয়। এর মধ্যদিয়ে যুদ্ধ নতুন রূপ নেয়। সংঘাতের শুরু থেকেই একটা যুদ্ধবিরতি কার্যকরের চেষ্টা চলছিল। তবে এতদিন তা সফল হয়নি। এতে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও হতাহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। 


সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুদ্ধবিরতি কার্যকরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন।

 

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে হিজবুল্লাহ ও লেবানন সরকার। কয়েকদিন রোববার (২৪ নভেম্বর) প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি জানায় ইসরাইল। এদিন রাতে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর সম্মতি জানান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।


মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন নেতানিয়াহু। বৈঠকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা চুক্তি কার্যকর করব। তবে চুক্তির কোনো লঙ্ঘন হলে জোর প্রতিক্রিয়া জানাব।’ 

 



নেতানিয়াহু বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পূর্ণ সমন্বয় সাপেক্ষে আমরা সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখব। তবে যদি হিজবুল্লাহ চুক্তি লঙ্ঘন করে বা ফের সশস্ত্র হওয়ার চেষ্টা করে, আমরা আঘাত করব।’ তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহ ২০২৩ সালের অক্টোবরে সংঘাত শুরু হওয়ার সময় যতটা শক্তি ছিল এখন তার তুলনায় যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে।

চুক্তিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘১৭০১ রেজল্যুশন’ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এই রেজল্যুশনের মাধ্যমে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর ২০০৬ সালের যুদ্ধ বন্ধ হয়েছিল। এই রেজল্যুশন অনুযায়ী সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার ভেতরে লিতানি নদীর পেছনে সরে আসতে হবে হিজবুল্লাহকে।


এছাড়া যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন তদারকি করবে ফ্রান্সসহ পাঁচটি দেশ। এর নেতৃত্বে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। অবশ্য জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, যেকোনো চুক্তির অধীন ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালু রাখার সক্ষমতা বজায় রাখবে। এর আগে লেবাননের পক্ষ থেকে খসড়া চুক্তির এমন শব্দবন্ধ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল, যেটা ইসরাইলকে এমন অধিকার দেবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post